মুরাবাহা: কিস্তিতে পণ্য
আপনার দরকারি পণ্য সমিতি নিজে কিনে মালিক হয়, তারপর ক্রয়মূল্য ও লাভ খোলাখুলি জানিয়ে কিস্তিতে আপনার কাছে বিক্রি করে।
পণ্যের দাম আর সমিতির লাভ চুক্তির দিনই ঠিক হয়ে যায়। আবেদন করার আগে পাশের হিসাব যন্ত্রে নিজেই দেখে নিন প্রথম কিস্তি আর পরের কিস্তিগুলো কত হবে।
আমরা টাকার বিনিময়ে বাড়তি টাকা (সুদ) নিই না। আপনার দরকারি পণ্য বা সেবা আমরা নিজেরা কিনে দিই, আর মুনাফা চুক্তির দিনই স্থির, খোলাখুলি।
আমরা টাকার বিনিময়ে টাকা ধার দিই না। প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য বা সেবা কেনাবেচা, অগ্রিম ক্রয় অথবা যৌথ ব্যবসার মাধ্যমে হালাল উপায়ে আপনার চাহিদা পূরণ করা হয়।
আপনার দরকারি পণ্য সমিতি নিজে কিনে মালিক হয়, তারপর ক্রয়মূল্য ও লাভ খোলাখুলি জানিয়ে কিস্তিতে আপনার কাছে বিক্রি করে।
সমিতি সহজে বিক্রয়যোগ্য পণ্য (চাল, রড, সিমেন্ট) কিনে আপনার কাছে কিস্তিতে বিক্রি করে। আপনি নিজে বাজারে অন্য কারও কাছে বিক্রি করে নগদ টাকা পান। সমিতি বা তার প্রতিনিধি সেই পণ্য আর কেনে না।
চিকিৎসা, সন্তানের ভর্তি, বিদেশ গমন বা ঘর মেরামতের খরচ সমিতি সরাসরি হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা এজেন্সিকে পরিশোধ করে সেবাটি নেয়, আপনি কিস্তিতে পরিশোধ করেন।
কৃষক বা কারিগরের ভবিষ্যৎ ফসল বা পণ্য সমিতি আজই পুরো দাম দিয়ে কিনে নেয়। নির্ধারিত সময়ে তিনি টাকা নয়, চুক্তির পণ্য বুঝিয়ে দেন।
ব্যবসার মূলধনে সমিতি অংশীদার হয়। লাভ হলে আগে ঠিক করা অনুপাতে ভাগ হয়, আর স্বাভাবিক লোকসান হলে মূলধনের অনুপাতে সমিতিও তা বহন করে।
প্রতি মাসে জমা করুন। সমিতির প্রকৃত ব্যবসার লাভ চুক্তির অনুপাতে সঞ্চয়কারীদের মধ্যে ভাগ হয়, লাভ আগে থেকে বাঁধা থাকে না।
প্রতিটি ধাপ শরীয়াহ বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী সাজানো। বিশেষ করে ৪ নম্বর ধাপ—সমিতি পণ্য নিজের মালিকানায় না নেওয়া পর্যন্ত আপনার কাছে বিক্রি করতে পারে না।
ওয়েবসাইট থেকে সময় বেছে নিন, টোকেন নম্বর নিয়ে অফিসে আসুন। লাইনে দাঁড়াতে হবে না।
NID, ছবি, নমিনির তথ্য জমা দিয়ে সদস্য ফরম পূরণ করুন।
আপনার আয় ও জামিনদারের তথ্য যাচাই করে সাধারণত ৩–৫ কর্মদিবসে জানানো হয়।
আপনার চাওয়া পণ্য সমিতি নিজের টাকায় বিক্রেতার কাছ থেকে কিনে নিজের দখলে নেয়।
শরীয়াহর মূল শর্তক্রয়মূল্য, লাভ, মোট বিক্রয়মূল্য ও কিস্তির তারিখ লিখিতভাবে চুক্তিতে থাকে।
পণ্য হাতে পাওয়ার পর কিস্তি শুরু। সদস্য প্রোফাইলে প্রতিটি কিস্তির হিসাব দেখতে পাবেন।
অফিসে আসার আগে এখানে টিক দিয়ে মিলিয়ে নিন, যেন একবারেই কাজ শেষ হয়।
সময় বেছে নিলে একটি টোকেন নম্বর পাবেন। নির্ধারিত সময়ে এসে টোকেন দেখালেই সরাসরি কাউন্টারে ডাকা হবে।
শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা। দুপুর ১টা থেকে ২টা ৩০ জোহর ও খাবারের বিরতি। শুক্রবার বন্ধ।
শরীয়াহর বিধান মেনে দেরির জরিমানার একটি টাকাও সমিতির আয়ে যোগ হয় না। মোট ০টি দান-সদকার ছবি ও বিবরণ এখানে দেখুন। হিসাব সরাসরি সমিতির খাতা থেকে দেখানো হচ্ছে।
সুদ হলো টাকা ধার দিয়ে সময়ের সাথে বাড়তি টাকা নেওয়া। মুরাবাহায় সমিতি একটি পণ্য কিনে মালিক হয়, তারপর লাভ যোগ করে আপনার কাছে বিক্রি করে। লাভ একবারই নির্ধারিত হয় এবং সময় বাড়লেও বাড়ে না।
নির্ধারিত তারিখের পর ৩ দিনের মধ্যে কিস্তি পরিশোধ না করলে সমিতির নীতিমালা অনুযায়ী বিলম্ব জরিমানা দিতে হবে। শরীয়াহর বিধান মেনে এই জরিমানার টাকা সমিতির আয়ে যোগ হয় না, পুরোটা দান-সদকায় ব্যয় হয়। বারবার দেরি করলে ভবিষ্যতে সেবা পাওয়া বন্ধ হবে এবং জামিনদারের কাছ থেকে পাওনা আদায় করা হবে। সত্যিই বিপদে পড়লে কিস্তির তারিখের আগেই অফিসে জানান, যাচাই করে সময় বাড়ানো বা জরিমানা মওকুফ করা হতে পারে।
পুরো মেয়াদের লাভ প্রথম কিস্তির সাথে একবারেই দিতে হয়। তাই প্রথম কিস্তি একটু বেশি হয়, পরের কিস্তিগুলো সমান ও কম থাকে। হিসাব যন্ত্রে দুটোই দেখানো হয়।
না। সমিতি টাকার বিনিময়ে টাকা ধার দেয় না। নগদ প্রয়োজনে তাওয়াররুক পদ্ধতিতে পণ্য কেনাবেচার মাধ্যমে ব্যবস্থা করা হয়, আর চিকিৎসা, শিক্ষা বা বিদেশ গমনের খরচ সেবা অর্থায়নে সরাসরি সেবাদাতাকে পরিশোধ করা হয়।
চুক্তিতে ছাড়ের শর্ত রাখা যায় না, তবে আগাম পরিশোধে সমিতি নিজ ইচ্ছায় কিছু অংশ মাফ (ইবরা) করতে পারে।
আগে থেকে নির্দিষ্ট অঙ্ক বলা যায় না, কারণ তা হলে সেটা সুদ হয়ে যায়। বছর শেষে সমিতির প্রকৃত লাভ হিসাব করে চুক্তির অনুপাতে আপনার অংশ প্রোফাইলে যোগ হয়।
বাজারের যেকোনো পাইকার বা দোকানদারের কাছে আপনি নিজে বিক্রি করবেন। শরীয়াহর শর্ত অনুযায়ী সমিতি বা সমিতির কোনো প্রতিনিধি সেই পণ্য আপনার কাছ থেকে কিনবে না।
স্বাভাবিক ব্যবসায়িক লোকসান হলে সমিতি তার মূলধনের অনুপাতে তা বহন করে। তবে অবহেলা বা চুক্তি ভঙ্গের কারণে লোকসান হলে তার দায় ব্যবসা পরিচালনাকারীর।
হ্যাঁ। আগের সেবার পরিশোধ রেকর্ড ভালো থাকলে দ্রুত নতুন সেবা দেওয়া হয়। আপনার সদস্য কার্ডের নম্বর দিয়েই অফিস আপনার পুরো ইতিহাস দেখতে পায়।