যাকাত কখন ফরজ হয় (আগে পড়ে নিন)
- মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্ক হতে হবে।
- নিসাব: দৈনন্দিন প্রয়োজন ও দেনা বাদ দিয়ে অন্তত ৫২.৫ ভরি (৬১২.৩৬ গ্রাম) রুপা বা ৭.৫ ভরি (৮৭.৪৮ গ্রাম) সোনার সমান সম্পদ থাকতে হবে।
- শুধু সোনা থাকলে সোনার নিসাব (৭.৫ ভরি) দেখা হয়। সোনার সাথে নগদ টাকা, রুপা বা ব্যবসার পণ্য মিলে থাকলে রুপার নিসাব ধরা হয়, কারণ তাতে গরিবের উপকার বেশি (হানাফি মত)। হিসাব যন্ত্র এটা নিজে বেছে নেবে।
- হাওল (এক বছর): নিসাব পরিমাণ সম্পদ হাতে আসার দিন থেকে এক চান্দ্র বছর (হিজরি বছর) পূর্ণ হলে সেদিন যা আছে তার উপর যাকাত। বছরের মাঝে কমবেশি হলেও বছরের শুরু ও শেষে নিসাব থাকলেই চলবে।
- হার: মোট যাকাতযোগ্য সম্পদের ২.৫% (৪০ ভাগের ১ ভাগ)।
যেসব জিনিসে যাকাত নেই
বসবাসের বাড়ি, নিজের ব্যবহারের গাড়ি, আসবাব, পরিধেয় পোশাক, ঘরের তৈজসপত্র, ব্যবসার দোকানঘর ও যন্ত্রপাতি, ভাড়া দেওয়া বাড়ি বা দোকানের নিজস্ব মূল্য (শুধু জমানো ভাড়ার টাকায় যাকাত), নিজের ব্যবহারের জমি, হীরা-মুক্তা (ব্যবসার জন্য না হলে)। ফসলের উশর আর গবাদিপশুর যাকাতের নিয়ম আলাদা; সেগুলো এই হিসাবে নেই, আলেমের পরামর্শ নিন।
যাকাত কাকে দেওয়া যায় (সূরা তাওবা, আয়াত ৬০)
আটটি খাত: ফকির (যার কিছুই নেই বা খুব সামান্য), মিসকিন (নিসাবের চেয়ে কম সম্পদ), যাকাত আদায়ের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি, যাদের অন্তর ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করা প্রয়োজন, দাসমুক্তি, ঋণগ্রস্ত (যে ঋণ শোধে অক্ষম), আল্লাহর পথে, আর বিপদগ্রস্ত মুসাফির।
দেওয়া যায় না: নিজের বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, সন্তান-নাতি-নাতনি, স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে, এবং নিসাবের মালিক (ধনী) ব্যক্তিকে। মসজিদ নির্মাণ বা রাস্তাঘাটে যাকাতের টাকা দেওয়া যায় না; যাকাত গরিব মানুষকে মালিক বানিয়ে দিতে হয়। ভাই-বোন, চাচা-মামা, খালা-ফুফুরা গরিব হলে তাদের দেওয়া উত্তম।
এই হিসাব প্রচলিত হানাফি ফিকহের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী তৈরি, শরীয়াহ বোর্ডের তত্ত্বাবধানে। জটিল ক্ষেত্রে (বড় ব্যবসা, যৌথ সম্পত্তি, দীর্ঘমেয়াদি ঋণ, শেয়ারের বিস্তারিত হিসাব) স্থানীয় বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নিন।